অবৈধ মাদক পাচার রোধে ব্যর্থ দেশের তালিকা থেকে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভেনেজুয়েলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিকোলাসের মাদুরোর অপসারণের পর দেশটি মাদকবিরোধী লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়া ও বলিভিয়াকেও এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া এবং বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধ স্বৈরাচার ও মাদক পাচারকারী নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার ও অপসারণের ফলেই আজ দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে কার্টেল দমনে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার সুফল দেখতে পাচ্ছি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের কট্টর সমালোচক ও বামপন্থী নেতা মাদুরোকে গত জানুয়ারি মাসে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় ওয়াশিংটন। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল কোর্টে মাদক পাচারের অভিযোগে তার বিচার চলছে। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং তেলসমৃদ্ধ দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রতিবছর অন্যান্য দেশগুলো মাদক উৎপাদন ও পাচার দমনে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের অবহিত করা রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ওই প্রতিবেদনে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার (বার্মা) এবং কলম্বিয়াকে মাদক দমনে ‘স্পষ্টভাবে ব্যর্থ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া মেক্সিকো, কানাডা, ব্রাজিল ও নিকারাগুয়ার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।
তবে বলিভিয়া ও কলম্বিয়ায় নতুন রক্ষণশীল নেতারা ক্ষমতায় আসায় এবং তাদের পূর্ববর্তী বামপন্থী সরকারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করায় ট্রাম্প তাদের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, কোকা চাষ নির্মূল এবং ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা প্রচেষ্টা আরও বাড়াবেন বলে তিনি আশা করছেন। তবে আপাতত এই দেশগুলোকে তালিকার বাইরে না রেখে আগের মতোই ডেজিগনেশনে রাখা হচ্ছে।
আল জাজিরায় প্রকাশিত ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত এক বছরে দক্ষিণ আমেরিকার নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অঞ্চলের সরকারগুলোর সাথে সহযোগিতার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের সমালোচক বামপন্থীদের হটিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ডানপন্থীদের উত্থানের দিকে ইঙ্গিত করেই এই মন্তব্য করা হয়। বর্তমানে বলিভিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, পানামা, পেরু, ভেনেজুয়েলা এবং কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোর নেতৃত্বে এমন সরকারগুলো রয়েছে যারা ট্রাম্পের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে নিজেদের মিত্র হিসেবে যুক্ত করেছে।
এই দেশগুলোর অনেকেই আবার ‘শিল্ড অফ দ্য আমেরিকা’ নামক যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন একটি আঞ্চলিক সামরিক ও নিরাপত্তা জোটেও যোগ দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মতে, এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলে মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম দমন করা। এর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদের বরাদ্দ কমিয়ে লাতিন আমেরিকার জন্য ৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের বৈদেশিক সামরিক তহবিল পুনরায় বরাদ্দ করার ঘোষণা দিয়েছে।


