তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মিশর। দেশটি এক-চীন নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের মধ্যে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
মিশরের গণমাধ্যম ইজেপ্ট টাইমস এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
কায়রোতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিশর চীনের পুনর্মিলনের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেছে।
বিবৃতিতে দুই দেশ একে অপরের মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নীল নদ মিশরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে চীন। দেশটি মিশরের পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষার বৈধ অধিকারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে নীল অববাহিকার সব দেশকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দুই পক্ষ।
মঙ্গলবার শি জিনপিংয়ের মিশর সফর শুরু হয়। সফরের শুরুতেই এল-সিসির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, যৌথ বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীর সঙ্গে এবারের সফরটি মিলে গেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো মিশর সফর করছেন শি জিনপিং।
১৯৫৬ সালে মিশরই প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে চীনকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপতি মতবিনিময় করেছেন এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।


