...|...|...

জাতীয়

জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৩:০৭ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৩:০৯
Shares
জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে।

বিপিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার পর্যায়ক্রমে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে নতুন ডিপো ও সংরক্ষণ ট্যাংক নির্মাণ, পুরোনো ও অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মজুদ অবকাঠামো ভাড়ায় নেওয়ার কাজ করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার সংরক্ষণ অবকাঠামো সংস্কার করে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতার মজুদ সুবিধা ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন।

এ ছাড়া পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলে মোট ৯ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলে ৫৮ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার নতুন সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সর্বোচ্চ ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন। মাসিক হিসাবে গড়ে ডিজেলের প্রয়োজন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন।

একই সময়ে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির অধীনে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো বর্তমানে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে।

জ্বালানির ধরন অনুযায়ী বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামোতে ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ মজুদ রাখা সম্ভব।

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনসহ (বিআরটিসি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদ রাখার বিধান রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এ সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায় সরকার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত মজুদ সক্ষমতা গড়ে উঠলে জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহজ হবে।