...|...|...

সারাদেশ

জীবননগরে মাঠের পর মাঠ পচছে ফুলকপি-বাঁধাকপি, দিশেহারা কৃষক

এ আর ডাবলু, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫০
Shares
জীবননগরে মাঠের পর মাঠ পচছে ফুলকপি-বাঁধাকপি, দিশেহারা কৃষক

জীবননগরে মাঠের পর মাঠ পচছে ফুলকপি-বাঁধাকপি। ছবি: টাইমস টুডে

আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষকরা। অজ্ঞাত রোগে মাঠের পর মাঠ পচে নষ্ট হচ্ছে এসব সবজির গাছ। নানা ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কৃষি বিভাগের ধারণা, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশগত কারণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি ও বাঁধাকপির ক্ষেতে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে গাছের পাতা নষ্ট হচ্ছে, এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো গাছ পচে মারা যাচ্ছে। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অধিক লাভের আশায় আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রতিকার।

কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই গাছের পাতা নষ্ট হতে শুরু করে। এরপর অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো গাছ পচে যায়। একটি মাঠ থেকে আরেকটি মাঠে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ। সবুজ পাতার আড়ালে সাদা ফুলকপির যে স্বপ্ন কৃষকরা দেখেছিলেন, তা এখন ফিকে হয়ে গেছে। নানা ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন তারা। অনেক কৃষক ধারদেনা করে আগাম সবজি চাষে নেমেছিলেন। এখন বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় তাদের দিন কাটছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। জমিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, সারি সারি গাছ নেতিয়ে পড়ছে। উৎপাদন খরচ তোলাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ রোগের বিস্তার কতটা ঠেকানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জীবননগরের শত শত কপিচাষি। তাদের প্রত্যাশা, কৃষি বিভাগের যথাযথ নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

ভুক্তভোগী উথলী গ্রামের কৃষক সাহাবুল ইসলাম বলেন, তিন বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ করে বাঁধাকপি চাষ করেছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত রোগে কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরো ক্ষেত পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বিক্রির উপযোগী না থাকায় এখন গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছি।

কৃষক শফি উদ্দিন বলেন, গ্রামের প্রায় সব ফুলকপি,বাঁধাকপি ক্ষেতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেড় বিঘা জমির ফসল কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার কথা ছিল। বিভিন্ন সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও রক্ষা করতে পারিনি। এবার উৎপাদন খরচ ওঠারও আশা নেই।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী জানান, বর্ষায় ছত্রাকের আক্রমণে বাঁধাকপি পচে গেছে। অনেক কৃষক নিম্নমানের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। কৃষকদের সঠিক মাত্রায় সার ও অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায় বলেন, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে। পরিবেশের কারণেও এ রোগ হতে পারে। তবে প্রত্যাশা অতি দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হবে।