...|...|...

সারাদেশ

আমনের হাসি খুলনার কৃষকের মুখে

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:১৩
Shares
আমনের হাসি খুলনার কৃষকের মুখে

ছবি: সংগৃহীত

অনুকূল আবহাওয়া, সুষম বৃষ্টিপাত এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সুফলে চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় রোপা আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা কমে আসায় এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। ফলে এ অঞ্চলে ধান ও চালের উৎপাদনও আশাতীত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল এই চার জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এবার আমনের চাষ হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন সবুজ-সোনালি ধানের সমারোহ। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় কৃষকদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। কৃষকদের আশা, উৎপাদন ভালো হলে স্থানীয় বাজারে আমন ধানের দামও সন্তোষজনক থাকবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় মোট দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে দুই লাখ ৯০ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে। তবে প্রদত্ত পরিসংখ্যানে লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনের হিসাবে অসঙ্গতি রয়েছে, দেওয়া সংখ্যাগুলো অনুযায়ী আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। একই সূত্রে অর্জন ১০০ দশমিক ১ শতাংশ এবং ১৫১ হেক্টর বেশি বলা হয়েছে, যা সংখ্যাগতভাবে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বছর এ অঞ্চল থেকে আট লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন চাল এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে খুলনা অঞ্চলের ৭৫ হাজার ৪০০ জন কৃষককে ছয় কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা দিয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন চাষের জন্য অনুকূল আবহাওয়া এবার কৃষকদের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বিশেষ করে সময়মতো ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে নিচু জমিতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কমে গিয়ে অনেক জমি আমন চাষের আওতায় এসেছে।

খুলনা জেলায় চলতি মৌসুমে ৮৮ হাজার ৩৫১ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৭ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমিতে। এ জেলা থেকে চার লাখ আট হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই লাখ ৭২ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

বাগেরহাট জেলায় ৬৮ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমিতে। এ জেলা থেকে দুই লাখ ৭১ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন ধান এবং এক লাখ ৮১ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলায় আমন আবাদের চিত্র আরও ইতিবাচক। সেখানে ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। এ জেলা থেকে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন ধান এবং দুই লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চার জেলার মধ্যে নড়াইলের আবাদ ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। ফলে পুরো খুলনা অঞ্চলের মোট আবাদ ও উৎপাদনের চিত্র সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের জন্য নড়াইল জেলার তথ্যও প্রয়োজন।

কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে। একই সাথে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জলাবদ্ধতা কমানো, খাল পুনঃখনন, প্রণোদনা এবং অনুকূল আবহাওয়া সব মিলিয়ে খুলনা অঞ্চলে আমন উৎপাদনের সম্ভাবনা এবার বেশ ভালো। এখন কৃষকদের অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত ফলনের।