শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক কৃষকের কলাবাগানে রাতের অন্ধকারে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা বাগানের প্রায় ৪০০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এতে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
ঘটনাটি উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের বিলভরট গ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রিংকু মিয়া জানান, অসুস্থতা সত্ত্বেও স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ৩০ শতাংশ জমিতে কলার বাগান করেন। এ জন্য একটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই কলা বাজারজাত করার আশা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাগানের অধিকাংশ গাছ কেটে ফেলে।
রিংকু মিয়ার জানান, পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিবেশী মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে সোলাইমান মোল্লা ও তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার জমি দখলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণের টাকা দিয়ে বাগান করেছি। গাছে ফল আসতে শুরু করেছিল। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণ শোধ করব কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।
রিংকু মিয়ার স্ত্রী বলেন, আমরা দুজন মিলে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। ফলন ঘরে তোলার আগেই সব গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের সংসার বড় সংকটে পড়ে গেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সোলাইমান মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন ক্ষুদ্র কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল এভাবে নষ্ট হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং তার আর্থিক ক্ষতির যথাযথ প্রতিকার চেয়েছেন।


