...|...|...

বিশ্ব

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে? লড়াইয়ে আট হেভিওয়েট প্রার্থী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১২
Shares
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে? লড়াইয়ে আট হেভিওয়েট প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষের পথে থাকায় বিশ্ব সংস্থার পরবর্তী শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বিশ্বের অন্যতম কঠিন এই কূটনৈতিক দায়িত্বে আসার জন্য এবার মাঠে রয়েছেন আটজন প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্য দিয়েই এবার জাতিসংঘের এই নতুন অভিভাবক নির্বাচনের লড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে সরাসরি কোনো সামরিক শক্তি বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা না থাকলেও বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, যুদ্ধ থামানো, মানবিক সংকট মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

মিডেল ইস্ট আইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বার্কেট, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, চিলির মিশেল ব্যাশেলেট এবং ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা ও ইভোন বাকী। এছাড়া পুরুষ প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের মাকি সাল এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন কোনো সরাসরি সাধারণ ভোটে হয় না। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ এই নিয়োগ চূড়ান্ত করে থাকে। ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার চেয়েও নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া সবচেয়ে বড় শর্ত। এই পাঁচ পরাশক্তির যেকোনো একটি দেশের ভেটো বা বিরোধিতা যেকোনো প্রার্থীর জয়ের স্বপ্ন নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি এখানে মূল চাবিকাঠি।

বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবারের নির্বাচনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেন সংঘাত, গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার তীব্র কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং খোদ জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে নানামুখী বিতর্কের জেরে নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত জটিল এক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে জাতিসংঘের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা সামলানো নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একদিকে পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা এবং অন্যদিকে জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা—উভয় দিকই তাকে সমানভাবে সামলাতে হবে।

পাশাপাশি ভৌগোলিক বা আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়টিও এখানে কঠোরভাবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের সমতা বজায় রেখেই মহাসচিব নির্বাচন করা হয়ে থাকে। তাই প্রার্থীর নিজ অঞ্চলের পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, পরবর্তী মহাসচিব শুধু জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধানই হবেন না; বরং বিশ্ব যখন গভীর রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ সচল রাখা এবং বিশ্ববাসীর আস্থার জায়গায় জাতিসংঘকে টিকিয়ে রাখা হবে নতুন নেতৃত্বের জন্য ইতিহাসের অন্যতম বড় পরীক্ষা।