...|...|...

বিশ্ব

চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করল ভারত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৭
Shares
চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানার অস্তিত্ব নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ভারত। ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন কার্যকর করার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারত একে ‘আইনগত ভিত্তিহীন’ এবং সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক জোরালো বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ভারতের অবৈধ ও জবরদস্তিমূলক দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের চুক্তি করার কোনো অধিকার পাকিস্তানের নেই।

ভারত দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ১৯৫৩ সালের ২ মার্চ জিনজিয়াং এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণের জন্য স্বাক্ষরিত তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’ সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ এবং ‘বাতিলযোগ্য’।

এনডিটিভির বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে এই দখলকৃত ভূখণ্ডের মর্যাদা পরিবর্তন বা অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করি।

ভারতের মতে, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে এই তথাকথিত সীমান্ত সহযোগিতা সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর মাধ্যমে এসব এলাকার ওপর ভারতের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই খর্ব হবে না। একই সাথে পাকিস্তানকে এ ধরনের ‘নাটকবাজি’ বন্ধ করা এবং তাদের জবরদস্তিমূলক ও অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর পোস্টের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ওই পোস্টে পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশনের এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘উল্লেখযোগ্য মাইলফলক’।

পাকিস্তানের ওই পোস্টে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে এই তথাকথিত সীমান্ত কমিশন পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ ও সংযোগ স্থাপনের পথ সুগম করবে। ইসলামাবাদে অবস্থিত পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই কমিশনের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও মহাসাগর বিষয়ক বিভাগের উপপরিচালক লি ই এবং পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন বিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।