...|...|...

ক্যাম্পাস

চবিতে ভাতের প্লেটে মিলছে মাছি-মাকড়সা-পেরেক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৫৩ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২২
Shares
চবিতে ভাতের প্লেটে মিলছে মাছি-মাকড়সা-পেরেক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

চবিতে ভাতের প্লেটে মিলছে মাছি-মাকড়সা-পেরেক। ছবি: টাইমস টুডে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ও হলের ক্যান্টিন, ডাইনিং, ক্যাফেটেরিয়া এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের সাথে মিলছে মাছি, পোকামাকড়, শামুক, মাকড়সা, পেরেক, শ্যাম্পুর মোড়ক ও জিআই তারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু। কোথাও খাবারে পাওয়া যাচ্ছে মুরগির পালক, কোথাও বাসি ও পচা খাবার, আবার কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে রান্না করা খাবার। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে এমন একের পর এক ঘটনায় ক্যাম্পাসের খাবারের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সোহরাওয়ার্দী হলের ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবারে একটি লোহার অংশ পাওয়া যায়। প্লেটে পরিবেশিত ভাতের মধ্যে বাঁকানো ধাতব বস্তুটি দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী চাকসুর ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদককে অবগত করেন।

শুধু সোহরাওয়ার্দী হলই নয়, শাহ আমানত হলের ডাইনিংয়ের খাবারে শামুক এবং শাহজালাল হলের ডাইনিংয়ের তরকারিতে শ্যাম্পুর ব্যবহৃত মোড়ক ও জিআই তার পাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ডাইনিং ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, খাবার তৈরির সময় ভুলক্রমে এসব বস্তু চলে এসেছে।

ক্যাম্পাসের বাইরের খাবারের দোকানগুলোর চিত্রও একই রকম। ১ নম্বর গেট এলাকার 'ইসলামিয়া ভাতের হোটেল'-এর চিংড়ি মাছের তরকারি ও মুরগির খিচুড়িতে মাছি ও বিভিন্ন পোকা পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা খেয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানের নাস্তা ও খিচুড়িতে মাছি ও বিষাক্ত মাকড়সা পাওয়ার নজিরও নিত্যদিনের।

খাবারে অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুর পাশাপাশি খাবার তৈরির পরিবেশও চরম উদ্বেগজনক। গত ৮ আগস্ট ‘শাটল কিচেন’ নামক একটি দোকানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগির পালকসহ খাবার তৈরির প্রমাণ পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি দোকানটি বন্ধ করে দেয় এবং এর চাবি প্রক্টর অফিসে জমা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তলব করে। অন্যদিকে, এ এফ রহমান হলের ক্যান্টিনে বাসি খিচুড়ি ও পচা ডিম বিক্রির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে পরবর্তীতে হল প্রশাসন ও চাকসু প্রতিনিধিরা ওই ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালককে অপসারণ করে তা বন্ধ করে দেন।

খাবারের এসব নোংরা পরিবেশের পাশাপাশি সার্বিক মান, দাম ও পরিমাণের চরম অসঙ্গতি রয়েছে। বিজয়-২৪ ক্যাফেটেরিয়ায় ৭০ টাকার মুরগির কালাভূনায় দুর্গন্ধে ভরা অখাদ্য পরিবেশন এবং অতিরিক্ত মসলা ব্যবহারের মাধ্যমে নিম্নমানের খাবার ঢাকার চেষ্টা করা হয়। একই সাথে সোহরাওয়ার্দী মোড়ের ‘বি-বাড়িয়া’ রেস্তোরাঁ ও স্টেশনের ‘Urbanic’ হোটেলে নির্ধারিত দামে খাবার কিনেও প্রত্যাশিত পরিমাণ না পাওয়া, কিংবা মাংসের বদলে শুধু হাড় ও বাসি তেহারি পরিবেশন করা হয়।

চবির আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকেই প্রতিদিন হলের ডাইনিং ও স্থানীয় রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করতে হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে বাধ্য হয়ে তারা মারাত্মক পেটের পীড়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিয়মিত ও আকস্মিক খাদ্য পরিদর্শন চালাতে হবে। খাবার তৈরির স্থান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, কাঁচামালের মান, খাবার সংরক্ষণ এবং পরিবেশনের পুরো প্রক্রিয়া তদারকির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি খাবারে অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু বা ময়লা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকান বন্ধসহ জরিমানার আওতায় আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে চাকসুর ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, হল সংসদের আওতাধীন বিষয়গুলোতে আমাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না, তবে সোহরাওয়ার্দী হলের খাবারে যে পেরেক পাওয়া গেল, তার পরপরই আমি হল সংসদের সাথে কথা বলেছি। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কিন্তু বিষয়গুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদমই সহযোগিতা করতেছে না।