জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে তাকে আটক করে আশুলিয়া থানায় দেওয়া হয়।
সাইফুল ইসলাম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। গত ৩১ জুলাই ঘোষিত পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। বর্তমানে জাবির ট্রান্সপোর্ট চত্বরে মায়ের সাথে একটি দোকান পরিচালনা করেন তিনি।
সাইফুলের মা সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত, বিষয়টি তিনি জানতেন না।
তবে জাবি ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল। তিনি দাবি করেন, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সাভার থেকে পোস্টার ছাপিয়ে গাড়িতে করে পাবনায় পাঠাতেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোস্টার লাগাননি।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য শারমিন আক্তার সাথীর একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন সাইফুল। এ বিষয়ে কথা বলতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাকর্মী তার দোকানে যান। সেখানে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেন তারা।
তাদের দাবি, সাইফুলের ফোনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সাথে তোলা ছবি, বিভিন্ন কথোপকথন এবং জাবি ও পাবিপ্রবিতে পোস্টার লাগানোসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জাবি শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সাথে তার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।
ছাত্রদল নেতারা আরও দাবি করেন, ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে দেখা গেছে। পরে ওই ফুটেজের ছবি ও তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, সাইফুল পাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্বীকার করলেও জাবিতে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তার ফোনে পাওয়া কথোপকথন ও ছবিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অপতৎপরতার সাথে সাইফুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাইফুলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


