...|...|...

আইন ও আদালত

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সাতদিনের রিমান্ডে

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৭
Shares
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সাতদিনের রিমান্ডে

ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সরকারি গোপন আইনে দায়ের করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে একইদিন রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলাটি করা হয়। গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থান করে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ছিলেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন। ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, রবিউলের পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এসব সফরের মধ্যে কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, আবার কখনো ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের আড়ালে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তি করতেন। এ সময় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ রেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে রবিউল বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে অবস্থানকালে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময়ে রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং সরকারি নথি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। একইসাথে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।