...|...|...

সারাদেশ

গাজীপুর নয়, পিচ্চি রাজা পালিয়েছিল তাঁতীবাজার থেকে; দুই পুলিশ গ্রেফতার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:১১ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:২২
Shares
গাজীপুর নয়, পিচ্চি রাজা পালিয়েছিল তাঁতীবাজার থেকে; দুই পুলিশ গ্রেফতার

শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে নয়, ঢাকার পুরান অংশের তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়েছিলেন শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩০)। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কারাগারে ফেরার পথে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান।

তবে ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থেকে নামান। ওই সময় সুযোগ নিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে বাকি ২৯ আসামিকে কারাগারে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা আসামি কোথা থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। শুরুতে যে বাইমাইল এলাকার কথা বলা হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক নয় বলে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখনো তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আসামি কোন স্থান থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়েও তারা ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে পালানোর স্থান হিসেবে তাঁতীবাজারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, পিচ্চি রাজা কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে পালালেন এবং ঘটনার প্রকৃত স্থান কোথায়- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, প্রিজন ভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে সাধারণত কোথাও থামতে পারে না। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কাছের থানায় গাড়ি থামানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে গাড়ি থামানোর কথা বলেছেন, সেখানে থামানোর সুযোগ থাকার কথা নয়।

তিনি জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, পুলিশ সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিলেও প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছেন। ঘটনার সাথে দুই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।