শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় জাফনার চেম্মানি এলাকার একটি শ্মশান সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণকবরের সন্ধান মিলেছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিন ধাপে চালানো খননকাজে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের কঙ্কাল ও দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ স্বজনদের দেহাবশেষের খোঁজে এখন সেখানে ভিড় করছেন গৃহযুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া তামিল পরিবারগুলো। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ধারণা, দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার বেসামরিক তামিলদেরই এখানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলোর পাশ থেকে কাচের চুড়ি, স্কুলব্যাগ ও শিশুদের দুধের বোতলের মতো নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা সমস্ত আলামত ও দেহাংশ আদালতের হেফাজতে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে শ্মশানের জমি খননের সময় প্রথম মানব কঙ্কালের সন্ধান পান স্থানীয় শ্রমিকেরা। পরে আদালতের নির্দেশে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান ও খনন শুরু করেন। অগভীর গর্তে বস্ত্রহীন অবস্থায় একের পর এক লাশ স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার গেহান গুণতিলকে জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক পরিদর্শনে স্পষ্ট যে এটি কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক সমাধিস্থল নয়; বরং বেআইনি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত।
শ্রীলঙ্কার ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৩ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিখোঁজ হন। চেম্মানির এই গণকবরটি নিখোঁজদের স্বজনদের জন্য চরম বেদনার পাশাপাশি সত্য জানার প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


