পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। ১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলংকা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হর্ষিতা সমরবিক্রম ও কবিশা দিলহারির জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আগামী রবিবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। মাত্র ৫২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
সেখান থেকে দলের দায়িত্ব নেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। ৩৬ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন ফাতিমা। তার ইনিংসের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমেও ভালো শুরু পায়নি শ্রীলঙ্কা। ৩৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে তারা বড় চাপে পড়ে যায়। বল হাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বও সামনে থেকে দেন ফাতিমা। তিনি তুলে নেন দুটি উইকেট। তখন মনে হচ্ছিল, ফাইনালের টিকিট বুঝি পাকিস্তানের হাতেই চলে যাচ্ছে।
এমনকি ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সম্ভাবনাও তখন জোরালো হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে হর্ষিতা সমরবিক্রম ও কবিশা দিলহারির জুটি সেই সমীকরণ বদলে দেয়। দুজনের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা।
হর্ষিতা ৩১ বলে ৩৬ রান করার পর কবিশা ৩৩ বলে করেন ৩৩ রান। তাদের জুটিতে প্রয়োজনীয় রান ও বলের ব্যবধান কমতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে আসে শ্রীলঙ্কার হাতে।
শেষ চেষ্টা হিসেবে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফাতিমা সানা হর্ষিতা ও কবিশা দুজনকেই ফিরিয়ে দেন। তবে ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত তৈরি করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা।
শেষ দিকে নীলাক্সিকা সিলভা ও কৌশিনী নুত্যাঙ্গনা কোনো বিপদ হতে দেননি। নীলাক্সিকা ১৮ ও কৌশিনী ১০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। ১৮.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই পাকিস্তানের সেরা ছিলেন ফাতিমা সানা। ৪৭ রানে অপরাজিত থাকার পর বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান পাকিস্তানের অধিনায়ক।
তবে ফাতিমার ব্যক্তিগত অসাধারণ পারফরম্যান্সও পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হর্ষিতা ও কবিশার জুটিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। আগামীকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।


