...|...|...

বিশ্ব

খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লন্ডনের দুই পেন্টহাউস বিক্রি হচ্ছে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:০৭
Shares
খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লন্ডনের দুই পেন্টহাউস বিক্রি হচ্ছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লন্ডনের দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারির মালিকানাধীন সম্পত্তি দুটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ঋণদাতারা।

দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনসিংটন প্যালেসের পাশে লন্ডনের অন্যতম অভিজাত এলাকা প্যালেস গ্রিনের ৩এ নম্বর ভবনে থাকা পেন্টহাউস দুটির মোট ক্রয়মূল্য ছিল ৩ কোটি ৫৭৫ লাখ পাউন্ড।

এর মধ্যে পাঁচ শয়নকক্ষের একটি ডুপ্লেক্স ২০১৬ সালে ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কেনা হয়েছিল। সেটি এখন ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডেরও কম দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। অর্থাৎ আগের ক্রয়মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭০ লাখ পাউন্ড কম।

অন্য পেন্টহাউসটি ২০১৪ সালে ১ কোটি ৬৭৫ লাখ পাউন্ডে কেনা হয়েছিল। সেটিও বর্তমানে ঋণদাতাদের নিয়োগ করা রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এটি এখনো প্রকাশ্যে বিক্রির তালিকায় ওঠেনি এবং এর সম্ভাব্য মূল্যও জানা যায়নি।

দুটি সম্পত্তিই ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারির নামে নিবন্ধিত। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাকে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও মোজতবা খামেনির সুবিধাভোগী হিসেবে বর্ণিত একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সম্পদ নেটওয়ার্কের ‘গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কেন বিক্রি হচ্ছে

ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণদাতা সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন স্বাধীন রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন। ওই রিসিভার সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণদাতার পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করেন।

দ্য সানডে টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আনসারি বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার সম্পত্তি দুটি বিক্রির অনুমোদন দেয়। ঋণদাতারা নিজেদের পাওনা আদায়ে রিসিভার নিয়োগ করেছেন।

সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধের পর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে, আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত সেই অর্থ জব্দ অবস্থায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১ কোটি ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের নিচে

প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য তোলা পেন্টহাউসটির মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশ উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের এই ডুপ্লেক্সটি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় অবস্থিত। এতে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ছাদও রয়েছে। পেন্টহাউসটি কেনসিংটন গার্ডেনের দিকে মুখ করে আছে।

সম্পত্তিটি যৌথভাবে বিক্রি করছে নাইট ফ্র্যাঙ্ক ও সোথেবিজ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটি।

তবে রিসিভারশিপের কারণে সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছু জটিলতাও রয়েছে। সাধারণত সম্পত্তি কেনাবেচার সময় যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়, রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এর সব তথ্য এজেন্টদের কাছে নেই।

তার পরও বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা পেন্টহাউস দুটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞার চাপে আনসারির সম্পদ নেটওয়ার্ক

আনসারির আর্থিক নেটওয়ার্ক নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নজরদারি সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ব্রিটেন আনসারির ওপর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কোম্পানির পরিচালক হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দেশটি অভিযোগ করেছিল, তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, আনসারি বিভিন্ন দেশে অসংখ্য ভুয়া কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিদেশে আবাসন ও ব্যবসায়িক সম্পদের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।

এই নেটওয়ার্ক যুক্তরাজ্য, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, স্পেন ও সাইপ্রাস পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব সম্পদের অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত মোজতবা খামেনি, তার পরিবার, ইরানের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সুবিধায় ব্যবহৃত হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আনসারিকে এখন বিলুপ্ত আয়ানদেহ ব্যাংকের সঙ্গেও যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাংকটিতে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে তিনি অতিরিক্ত ঋণ অনুমোদন এবং বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বিদেশি ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আনসারি তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।