...|...|...

বিশ্ব

এক ভিসাতেই যাওয়া যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:২৮
Shares
এক ভিসাতেই যাওয়া যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে

ছবি: সংগৃহীত

শুধু একটি ভিসা নিয়েই ঘুরে দেখা যাবে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ ব্যবস্থা শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই। সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জিসিসি মহাসচিব  জানান, এই ভিসা চালু হলে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটি অনুমতির মাধ্যমেই জিসিসির ছয় সদস্য দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করতে পারবেন। ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতোই কাজ করবে এই ব্যবস্থা।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘নিরাপত্তা ও ইতিহাস বিষয়ক সংলাপ ২০২৬’-এর এক বিশেষ অধিবেশনে আল-বুদাইউই বলেন, সমন্বিত এই ভিসা ব্যবস্থা খুব শিগগিরই চালু হবে। তবে এখনো এর নির্দিষ্ট তারিখ, খরচ, মেয়াদ ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটন মন্ত্রীরা এই একক পর্যটন ভিসার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরে জিসিসির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরাও এর অনুমোদন দেন। ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তুক আল মারি জানিয়েছিলেন, ভিসা ব্যবস্থাটি অনুমোদিত হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

জিসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করা।

এদিকে, জিসিসির মহাসচিব একই অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে ‘এক-ধাপের বিমান ভ্রমণ’ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। এই ব্যবস্থায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পাসপোর্ট যাচাই, বায়োমেট্রিক তথ্য ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে ‘ওয়ান-স্টপ’ বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থা ও ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ দুটি আলাদা উদ্যোগ। প্রথমটি মূলত জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করার জন্য, আর দ্বিতীয়টি বিদেশি পর্যটকদের জন্য পুরো অঞ্চলে ভ্রমণ সুবিধা বাড়াতে চালু করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একক ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছয় দেশের পর্যটন, পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।