...|...|...

লাইফস্টাইল

এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু কেন ঝুঁকিপূর্ণ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৫৭
Shares
এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু কেন ঝুঁকিপূর্ণ

এক বছরের আগে শিশুকে মধু নয়। ছবি: এআই জেনারেটেড

মধু প্রাকৃতিক খাবার হলেও এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য এটি নিরাপদ নয়। এই বয়সে মধু খাওয়ালে বিরল কিন্তু গুরুতর একটি অসুস্থতা- ইনফ্যান্ট বোটুলিজম- হতে পারে। তাই শিশুর এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মধু না দেওয়াই নিরাপদ।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের জার্নাল Pediatrics- এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৮টি দেশে শিশু বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় শিশুদের মধু খাওয়ানোকে বোটুলিজমের একটি ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে অভিভাবকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মধু কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

মধুতে কখনো কখনো Clostridium botulinum ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্র সাধারণত এসব স্পোরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুর অন্ত্র তখনও পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় স্পোর সেখানে বেড়ে গিয়ে বিষাক্ত টক্সিন তৈরি করতে পারে। এই টক্সিন স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিয়ে বোটুলিজম ঘটাতে পারে।

অবশ্য সব মধুতে এই স্পোর থাকে না এবং মধু খেলেই প্রতিটি শিশু অসুস্থ হবে- এমনও নয়। শিশু বোটুলিজম বিরল। তবে শিশুর জন্য মধু কোনো প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস নয়। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এক বছর বয়সের আগে মধু সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। এরপর ধীরে ধীরে শিশুর শরীরে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- 

- কোষ্ঠকাঠিন্য
- দুধ বা খাবার খেতে সমস্যা
- দুর্বলভাবে কান্না করা
- চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া
- মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া
- মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা
- গিলতে সমস্যা

গুরুতর অবস্থায় বোটুলিজমের টক্সিন গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তাই এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু না দেওয়াই নিরাপদ। কোনো শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খেতে সমস্যা, দুর্বল কান্না, গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।