গলা ব্যথা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। ঠান্ডা-সর্দি, ভাইরাসের সংক্রমণ, অ্যালার্জি, ধোঁয়া বা অতিরিক্ত শুষ্ক বাতাসের কারণে গলায় ব্যথা ও খুসখুসে ভাব দেখা দিতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ও অনেকের এ সমস্যা বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা গলা ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে অস্বস্তি কমাতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।
গরম বা ঠান্ডা পানীয়
গলা ব্যথার সময় পর্যাপ্ত তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। গরম পানি, হারবাল চা, লেবু মেশানো গরম পানি কিংবা স্যুপ গলার শুষ্কতা কমিয়ে আরাম দিতে পারে। উষ্ণ তরল জমে থাকা শ্লেষ্মা কিছুটা পাতলা করতেও সাহায্য করতে পারে।
আবার সবার ক্ষেত্রে গরম পানীয়ই আরামদায়ক হবে এমন নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি, বরফের টুকরো বা আইস পপ গলার ব্যথা ও প্রদাহের অস্বস্তি কমাতে পারে। তাই শরীর কোনটিতে বেশি স্বস্তি পাচ্ছে, সেটি বিবেচনা করা ভালো।
মধু হতে পারে উপকারী
গলা ব্যথার সাথে কাশি থাকলে মধু কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এটি গলার ওপর একটি আবরণ তৈরি করে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এক চামচ মধু সরাসরি খাওয়া যেতে পারে কিংবা গরম চা বা লেবু-পানিতে মিশিয়ে পান করা যায়।
তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনো মধু দেওয়া উচিত নয়। মধুতে থাকা জীবাণুর কারণে এ বয়সী শিশুদের বটুলিজমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
লবণ-পানিতে গার্গল
গলা ব্যথার ক্ষেত্রে উষ্ণ লবণ-পানিতে গার্গল একটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি। এটি গলার ফোলাভাব ও অস্বস্তি কমাতে এবং জমে থাকা শ্লেষ্মা আলগা করতে সাহায্য করতে পারে।
এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করা যায়। তবে গার্গলের পানি গিলে ফেলা উচিত নয়। অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করলে বরং গলা আরও শুষ্ক বা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
আদা-লেবুতেও মিলতে পারে আরাম
আদা দিয়ে তৈরি উষ্ণ চা গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। আদায় প্রদাহ কমানোর কিছু উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে উষ্ণ লেবু-পানি গলা আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং লেবু থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
তবে আদা বা লেবু গলা ব্যথার মূল কারণ সারিয়ে দেয়- এমন নিশ্চয়তা নেই। এগুলো মূলত উপসর্গের সময় স্বস্তি পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
রসুন ব্যবহারে সতর্কতা
রসুনে অ্যালিসিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যার জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কাঁচা রসুন সরাসরি চিবিয়ে খেলে গলা বা মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই গলা বেশি সংবেদনশীল থাকলে কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভালো।
বিশ্রাম ও আর্দ্রতা গুরুত্বপূর্ণ
গলা ব্যথার সময় শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া দরকার। পাশাপাশি নিয়মিত পানি ও অন্যান্য তরল পান করলে গলা শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।
গলার অস্বস্তি কমাতে থ্রোট লজেন্সও ব্যবহার করা যায়। তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে লজেন্স গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকতে হবে।
কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
গলা ব্যথার সময় অতিরিক্ত ঝাল, খুব গরম বা এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, যেগুলো গলায় জ্বালা বাড়ায়। ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ থেকেও দূরে থাকা উচিত। কারণ এগুলো গলার জ্বালা ও প্রদাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সাধারণ ভাইরাসজনিত গলা ব্যথা বেশিরভাগ সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। এ ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।
তবে গলা ব্যথার সাথে উচ্চ জ্বর, গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট, গলায় সাদা ছোপ, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া কিংবা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কয়েক দিন পার হওয়ার পরও উপসর্গ না কমলে বা ক্রমেই বেড়ে গেলেও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। এসব লক্ষণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন স্ট্রেপ থ্রোটের ইঙ্গিত হতে পারে।



