প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে মানুষের জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র, তথ্য অনুসন্ধান, লেখালেখি ও সৃজনশীল কাজ- প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন এআই অনেকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তবে এই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু ঝুঁকিও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই অনেক কাজে সহায়তা করতে পারলেও সব ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, অর্থ, আইন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানুষের নিজস্ব বিচারবোধ ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অপরিহার্য।
এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন—
১. চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এআই ব্যবহার
শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে এআই থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজে নিজে চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তাছাড়া, মানসিক চাপ, হতাশা বা জটিল মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন। এআইকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
২. জরুরি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া
দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা তাৎক্ষণিক বিপদের সময় এআইয়ের পরামর্শের অপেক্ষা না করে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া উচিত।
তাছাড়া, বিনিয়োগ, ঋণ, কর বা অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে এআইয়ের তথ্য যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৩. ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য শেয়ার
পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য, ব্যক্তিগত নথি কিংবা প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য কোনো এআই টুলে দেওয়া নিরাপদ নয়। এ ধরনের নথির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাছাড়া, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে এআই ব্যবহার করা অপরাধের শামিল হতে পারে।
৪. অনুমতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি
কারও ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি নৈতিক ও আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তি বা সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এআই নিঃসন্দেহে আধুনিক বিশ্বের একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি। তবে এটি চিকিৎসক, আইনজীবী, আর্থিক পরামর্শক বা মানুষের নিজস্ব বিবেচনাশক্তির বিকল্প নয়। তাই এআই ব্যবহারে সচেতনতা, তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


