কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের চরম আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এআই খাতে নিয়ন্ত্রণ ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমতে পারে—এমন গুঞ্জনে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার ছেড়ে সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ খাতে অর্থ সরাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এশিয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জাপানে। দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক ‘নিক্কেই’ ৬ শতাংশ কমে যায়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রধান সূচক লেনদেন শুরুর পর ৮ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তা পরিমাপক সূচক ‘ভিআইএক্স’ লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি নাসডাক কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এক দিনেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০-ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ৩ লাখ কোটি (৩ ট্রিলিয়ন) ডলার।
এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সিএমসি মার্কেটসের প্রধান ক্রিস্টোফার ফোর্বস এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছেন। মূলত এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা আসা নিয়ে আগেই সংশয় ছিল। নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পতন ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঋণের নিয়ম শিথিল করেছে এবং তাইওয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে বাজারে সহায়তার নির্দেশ দিলে দিনের শেষে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
বড় দরপতনের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক চিপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ, এসকে হাইনিক্সের ৯.৪ শতাংশ এবং তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ার ৪.৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া জাপানের সফটব্যাংকের শেয়ার ১১ শতাংশ এবং এআই ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ার ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
শেয়ারবাজারের এই ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে এশিয়ায় সরকারি বন্ডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের পাশাপাশি জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ৪.৮৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন।


