...|...|...

বিশ্ব

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৫
Shares
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহুর পক্ষে নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে এই ঘোষণা দিলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, রবিবার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে নেতানিয়াহুর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজের ‘পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ সমর্থন’ ঘোষণা করেন।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনোই হতাশ করবেন না।’ তিনি নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী, সাহসী ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ইসরায়েলের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়ার পরও নেতানিয়াহু নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। চলতি মাসের শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বিষয়ে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তাঁকে সরাসরি সমর্থন জানাননি ট্রাম্প। বরং নিজের জনপ্রিয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

তবে রবিবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো দ্বিধা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই এটি করতে চেয়েছিলাম। শুধু খুব দ্রুত করতে চাইনি।’ ইসরায়েলের এমন একজন নেতা থাকা জরুরি, যার ওপর দেশটির মানুষ ভরসা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘হয়তো পারব, হয়তো পারব না। কে আর এই ঝুঁকি নিতে চায়?’

ট্রাম্পের সমর্থনের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কৃতজ্ঞতা জানান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সমর্থনে তিনি সম্মানিত ও বিনম্র বোধ করছেন। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের এত বড় বন্ধু আগে কখনো ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়েও দুই নেতা নিজেদের অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং সংঘাতটি ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের কারণে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জন করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ ইসরায়েলের নেতৃত্বে এলে ইরানকে মোকাবিলার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রকেই একা নিতে হতে পারে। সে পরিস্থিতি তিনি চান না বলেও জানান।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্পের সমালোচনা বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চলতি মাসে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যুদ্ধে জড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েল প্ররোচিত করেছে—এমন জনধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থী জোটও নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ইরান, লেবানন ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। জুনে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে হতাশা প্রকাশের সময় এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প বলে খবর প্রকাশিত হয়। লেবাননে নতুন করে হামলা না চালিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখারও অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

তবে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইসরায়েলের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।