সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য।
ফেসবুক ও এক্সে ভিডিওটি দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের দৃশ্য বলে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ইউটিউবে প্রকাশ করেছিলেন এক ব্যক্তি। পরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতির বিবরণ দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ওই নারীর অপরাধের বিবরণ মক্কা শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রচার করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি সে সময় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
টাইমস অব ইসরায়েল ও সিএনএন এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ভিডিওটির সঙ্গে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নির্ভরযোগ্য যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবে হত্যা, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। অতীতে দেশটিতে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এ ধরনের ঘটনার ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সংবেদনশীল দৃশ্যের প্রচার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি বা ভিডিওকে নতুন ঘটনার বলে প্রচার করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে কোনো ভিডিও যাচাই না করে শেয়ার করলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে মূল প্রকাশের তারিখ, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার মিল পরীক্ষা করা জরুরি।
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির ক্ষেত্রেও ২০১৫ সালের সংবাদপ্রতিবেদন থেকে এর পুরোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য হিসেবে প্রচার বিভ্রান্তিকর।


