...|...|...

বিশ্ব

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কমাতে চান ট্রাম্প

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:০৩ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:০৬
Shares
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কমাতে চান ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আসলে যুদ্ধ শেষ করতে চান না। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে রবিবার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে তিনি আলোচনার চেষ্টা করছেন। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে জেলেনস্কির কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। জেলেনস্কির মতে, রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ইউক্রেনের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা আরও বাড়বে।

রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, পুতিন একজন আগ্রাসী। তিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছেন। জেলেনস্কির অভিযোগ, পুতিন নিজের দেশের সেনাদেরও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন।

গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ওই সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

রাশিয়ার জ্বালানিসংক্রান্ত নীতিতে ট্রাম্পের এ অবস্থান ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাঁদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চালানো মস্কোর ওপর চাপ কমানোর পদক্ষেপ রাশিয়াকে সুবিধা দিতে পারে।

এদিকে, রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে বলেও জানান তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। তবে এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।