...|...|...

জাতীয়

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, ‘জানতাম না’ বলে দায় এড়াতে পারবে দূতাবাস?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০৪ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:১৪
Shares
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, ‘জানতাম না’ বলে দায় এড়াতে পারবে দূতাবাস?

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা জানত না বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে দূতাবাসের কিছুই জানার সুযোগ ছিল না কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক দুই কূটনীতিকের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া গেছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ মনে করেন, দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে ‘জানতাম না’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে সাবেক কূটনীতিক মাহফুজুর রহমানের মতে, কোনো নাগরিক বিদেশে আটক হলে সব ক্ষেত্রে তার দূতাবাসকে জানানো হয় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগে অনীহা প্রকাশ করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে  বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল।

খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি। পরে রবিবার ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে তথ্য জানতে বৈঠক করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা কঠোর এবং সেখানে বিচারপ্রক্রিয়া হুট করে সম্পন্ন হয় না। তার ভাষ্য, রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনে আইনি সহায়তা ও মামলা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে কর্মকর্তা রয়েছেন। তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দূতাবাস কিছুই জানত না-এমন দাবি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তবে মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে চান কি না, তা জানতে চাওয়া হতে পারে। কেউ যোগাযোগে অনীহা জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে নাও জানাতে পারে। তার মতে, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, তা সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো অনুযায়ী বিচার ও সাজা কার্যকর হয়। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। এমনকি আদালতে বাংলাদেশিরা দোভাষী হিসেবেও কাজ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে দূতাবাসের কাছে কোনো তথ্য ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর ঘটনাকে আনুষ্ঠানিক ‘তলব’ নয়, বরং তথ্য জানার উদ্দেশ্যে বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়ার পরই দূতাবাসের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।