গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ সমাহিত করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) তাঁদের জানাজায় অংশ নেন শত শত মানুষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, জানাজার মিছিলটি গাজা শহরের দারাজ স্পোর্টস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে তাঁদের সমাহিত করা হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দেহাবশেষগুলো ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়িয়ে রাখা হয়, যাতে স্বজনেরা শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মাজদালাউই আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে গাজা শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দারাজ এলাকার কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে বাসিন্দারা বাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়। নিহতরা প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়ে ওই বাড়িগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন।
মাজদালাউই জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের লাশ উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্সের চলমান প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ১৯ জুলাই। এ পর্যায়ে গাজা শহর এবং উপত্যকার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১ হাজার ৭২ জনের লাশ আটকে আছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের নিচ থেকে ৩৩৩ জনের লাশ বা দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাবে আরও ২২৬ জনের কাছে পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
গত ৭ অক্টোবর সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, এখনো ৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান সম্পদ দিয়ে তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করতে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে গাজায় ভারী সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর অভিযোগ, ইসরায়েল এই প্রতিশ্রুতিসহ চুক্তির অন্যান্য অঙ্গীকারও পূরণ করেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


