...|...|...

বিশ্ব

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

সৌদিতে হামলা চালাতে হুথিদের গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:০৯
Shares
সৌদিতে হামলা চালাতে হুথিদের গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও তার ইয়েমেনি মিত্রদের ওপর সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত আক্রমণ চালাতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সহায়তা করে আসছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা, সেই সাথে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা। এছাড়া ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলেও এই সহায়তা ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে গোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিজস্ব উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি তেল ট্যাংকার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে।

সৌদি ও ইয়েমেনি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে জানায়, ইয়েমেনের ভেতরে অবস্থানরত আইআরজিসি-এর কর্মকর্তারা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির জন্য হুমকিস্বরূপ ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার মোতায়েনে হুথিদের সহায়তা করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে চালানো এক অভিযানে হুথিরা বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেবের আশপাশের এলাকা দখল করে নেয়।

হুথিবিরোধী বাহিনীর এক কর্মকর্তা ডব্লিউএসজে-কে জানান, পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার হুথিরা অনেক বেশি উন্নত ও পরিপক্ক কৌশল প্রদর্শন করেছে। তারা পদাতিক বাহিনীর আক্রমণের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ফাইবার-অপটিক ওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এফপিভি বা ফার্স্ট-পারসন-ভিউ ড্রোনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্য এক হুথিবিরোধী কর্মকর্তা জানান, আইআরজিসি-র কর্মকর্তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান দানি সিট্রিনোভিচ বলেছেন, তেহরান এবং হুথিদের মধ্যে অপারেশনাল বা কার্যনির্বাহী সম্পর্ক খুব, খুব শক্তিশালী। তিনি বলেন, হুথিদের সাফল্যে ইরানের বড় স্বার্থ রয়েছে। এই সম্পর্ককে তিনি সাধারণ কোনো পৃষ্ঠপোষক-গ্রাহক সম্পর্কের পরিবর্তে কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে সামরিক সহায়তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জ্যেষ্ঠ হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি তেহরানের ভূমিকা বাড়িয়ে দেখায় এবং হুথিদের নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই হুথিদের সম্পূর্ণ স্বাধীন অভিনেতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন যে তারা নিজেদের স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরান কোনো হস্তক্ষেপ করে না।

এর আগে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছিল যে, নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য হুথিরা লেবানন এবং ইরাকে যৌথ অপারেশন রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে।