ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর প্রতিবাদে লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেস ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন ভারতীয় শিক্ষার্থী সংগঠন। এ সময় সেখানে মোদিপন্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার লন্ডনের সংসদ চত্বরে অনুষ্ঠিত ‘স্টপ ভোট চুরি’ শীর্ষক এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অনলাইনে ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় গান্ধীর মূর্তির অপর পাশে মেট্রোপলিটন পুলিশের কড়া পাহারায় থাকা একটি ছোট দল ‘মোদি, মোদি’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের স্লোগানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সংসদ চত্বরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হিন্দিতে দেওয়া বক্তব্যে ধ্রুব রাঠী বলেন, আমরা কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ চাই না। আমি এখানে পার্লামেন্ট স্কোয়ারে এসেছি ভারতীয় ও এনআরআইদের উদ্দেশে কথা বলতে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে ‘ভোট চোরি’ বা ভোট চুরির বিরুদ্ধে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সরকার এবং বিরোধীদলীয় নেতার যৌথ সম্মতিতে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলতে থাকবে।
তার এই বক্তব্যের আগে সমাবেশে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করা হয়।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের যুব শাখা এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এছাড়া ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ইউকে এবং সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রবাসী প্ল্যাটফর্ম এতে সমর্থন জানায়।
পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও প্রবাসীদের অবস্থান
এর আগে ‘ইন্ডিয়া ডায়াসপোরা (আইডি) ইউকে’র পক্ষ থেকে লন্ডনের সমস্ত ‘ভারতপ্রেমী জনতা’কে এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থানে যোগ দেওয়ার একটি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছিল। আইডি ইউকে-এর প্রতিষ্ঠাতা হৃদেশ গুপ্ত বলেন, যুক্তরাজ্যের ভারতীয় প্রবাসীরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত ভারতের রূপকল্পে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের পাশে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরেও একটি ছোট পরিসরে বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল। গত মঙ্গলবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর দাবিসমূহ জোরালো করার আহ্বানে আয়োজিত ‘জরুরি বিক্ষোভ’-এর পর থেকেই মূলত এই ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। তাদের অন্যতম প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল করা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মৃত, দ্বৈত, স্থানান্তরিত এবং অন্যথায় অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হচ্ছে।


