যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত কয়েক মাসের যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের দৃঢ়তা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ ইরানি। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতি যখন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও জনসমর্থন জোরালো করার চেষ্টা করছে তেহরান। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
দেশকে রক্ষা করতে এবং সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লেখানো মানুষের সংখ্যা নিয়ে নানা রকম জরিপ রয়েছে। জানফাদায়ে-ই ইরান বা যারা ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত—এই স্লোগানে আয়োজিত এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা কমব্যাট ইউনিফর্ম বা সামরিক পোশাক পরে রাজধানী তেহরানের ডাউনটাউন বা মূল শহরের সড়কগুলোতে মার্চ করেন এবং পতাকা বহন করেন, আর রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা তাদের উল্লাসে সিক্ত করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত কয়েক দিন ধরে ইরানিদের এই অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তারা জানিয়েছে যে অ্যাসল্ট রাইফেল বা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল চালনার প্রশিক্ষণ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকরা শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড আংশিক সামরিক বাহিনী (প্যারামিলটরি) এবং এর সর্ব-স্বেচ্ছাসেবক শাখা ‘বাসিজ’-এর নিরাপত্তার আরেকটি অতিরিক্ত স্তর হিসেবে কাজ করবে।
তেহরানের গার্ড প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন এবং ১ লাখের বেশি মানুষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজ সকালে সম্প্রচারমাধ্যমটি অনুমান করেছিল যে রাজপথে ৩ লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভের শুরুতে দেওয়া এক ভাষণে বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব ঘোষণা করেন যে স্বেচ্ছাসেবকরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবেন এবং খুব শীঘ্রই দেশের অন্যান্য শহরেও এই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সামরিক কমান্ডার এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মার্চ করার সময় তাইয়েব যোগ করেন যে নতুন প্রশিক্ষণার্থীরা ইরানের শত্রুদের জন্য একটি ভয়াবহ স্বপ্ন বা নাইটমেয়ার তৈরি করবে।
বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পদদলিত করেন। অন্যরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
সমাবেশে নিজের ছোট সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে অংশ নেওয়া ২৪ বছর বয়সী মার্জিয়েহ আফাহি বলেন, আমি এখানে এসেছি (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড) ট্রাম্পকে এই বার্তা দিতে যে, আমরা ইরানিরা আমাদের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে তার কোনো হুমকিকে ভয় পাই না। ইতিহাসে কেউ কখনও ইরান আক্রমণ করে সেখানে টিকে থাকতে পারেনি।
এই বিক্ষোভ সমাবেশটি ইরানের সামরিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি সুযোগ হয়ে ওঠে। সমাবেশে বিমান প্রতিরক্ষাবাহিনীর ব্যাটারি প্রদর্শনের পাশাপাশি কালো হেডস্কার্ফ পরিহিত নারী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা ট্রাকের ওপর বসানো মেশিনগান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইআরজিসি এমন কিছু ড্রোন প্রদর্শন করে, যা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ওই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।


