ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না তেহরান।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ’ উপলক্ষে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮০-এর দশকে ইরানের ওপর তৎকালীন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেনের সাথে ইরানের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের শুরুর স্মরণে প্রতিবছর এই সপ্তাহ পালন করা হয়।
গালিবাফ বলেন, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, প্রতারণা ও একতরফা জবরদস্তির পথ এখন বন্ধ। ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার কাঠামোয় ফেরারও কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে ইরান।
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া ও পরিচালনার দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে বলে তেহরানের অভিযোগ। এসব পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের নৌ-চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান।


