দক্ষিণ ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি একটি যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্ডার হাঞ্জা মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল জাজিরার বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিকোপোল শহরের আশপাশের একটি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিকোপোল শহরটি দিনিপ্রো নদীর ঠিক ওপারে অবস্থিত, যার অপর পাশেই রয়েছে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিক থেকেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি সাদা রঙের মিনিবাসের জানালার কাচগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং গাড়িটির পাশ বেয়ে রক্তের দাগ গড়িয়ে পড়ছে।
দিনিপ্রোপেত্রভস্ক আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান মাইকোলা লুকাশুক বলেন, রুশ বাহিনী অত্যন্ত নির্মমভাবে একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালিয়েছে। দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষের ওই মিনিবাসটিই ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। তবে এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চলতি বছর হামলার তীব্রতা বাড়ার কারণে ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৩৯৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭ হাজার ৯৭৮ জন আহত হয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের ওই মিশনের তথ্যানুযায়ী (নির্ভরযোগ্য রুশ ওপেন-সোর্স রিপোর্টিংয়ের বরাতে), চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনীয় হামলায় অন্তত ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ৫৯৬ জন আহত হয়েছেন। দেশটিতে বেসামরিক হতাহতের এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১২১ শতাংশ বেশি।
তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর সর্বাত্মক আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কিয়েভ এবং মস্কো উভয় পক্ষই।
এদিকে, বুধবার সকালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। কিয়েভ নগর কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, একটি গুদামে রাশিয়ার হামলার কারণে সেখানে আগুন ধরে যায়।


