সুদানের পশ্চিম করদোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণখনি ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাধীন চিকিৎসকদের নেটওয়ার্ক ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসক নেটওয়ার্কের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম করদোফানের আল-নুহুদ এলাকার কাছে ‘আল-জারা’ স্বর্ণখনিটি ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার চরম ঘাটতি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খনি শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার এই তীব্র অবহেলার নিন্দা জানিয়ে নেটওয়ার্কটি বলেছে, আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি এবং পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ছাড়াই খনি পরিচালনা করা সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং এই বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে, এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেওয়ার এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অনিয়ন্ত্রিত খনি কার্যক্রম বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও সুদানে সনাতন পদ্ধতিতে খনি খনন বা আর্টিসানাল মাইনিংয়ের পেশায় যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ, যা দেশটির মোট স্বর্ণ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। সুদান সরকার এই সনাতন খনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ না করলেও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার কথা বিবেচনা করে খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পর দেশটি তার তেল আয়ের তিন-চতুর্থাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৮০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকেই স্বর্ণ দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।


