ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
সোমবারের (২ নভেম্বর) এ হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর এক প্রতিবেদনে এই বিধ্বংসী আক্রমণের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমিশুভাখা গ্রামে চালানো এই জোড়া বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে দু’জন উদ্ধারকর্মী এবং চারজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে দু’জন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
প্রতিদিনের মতো দেওয়া রাতে ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুল ভবনে আকাশপথে বোমা ফেলে। ভবনটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রতি সোমবার ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিনি স্পষ্ট করেন, যুদ্ধক্ষেত্র বা ফ্রন্টলাইনের খুব কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় এবং প্রায় চার সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে ওই স্কুলে কোনো পাঠদান কার্যক্রম চালু ছিল না।
জেলেনস্কি বলেন, ঠিক যখন মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছিল, তখনই রুশ বাহিনী প্রথম দফায় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এর কিছু পরই তারা দ্বিতীয় দফায় আবারও বিমান হামলা চালায়—এবার সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্রটির ওপর বোমা ফেলা হয়। এটি একটি চরম ঘৃণ্য ও সন্ত্রাসী হামলা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কমিশুভাখা গ্রামের অবশিষ্ট বাসিন্দারা যে প্রতি সপ্তাহের এই নির্দিষ্ট দিনে ত্রাণ সংগ্রহ করতে একত্রিত হন, সে তথ্য রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।


