অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির রক্ষণশীল বিরোধী জোট। দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ও সাময়িক ভিসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশনের নতুন এই অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, আগামী চার বছরে সাময়িক ভিসার সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানো হবে। এছাড়া আগামী দুই বছর বার্ষিক নিট বৈদেশিক অভিবাসনের হার কমিয়ে ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে, যা বর্তমান হারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
রয়টার্স বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধ এবং তীব্র আবাসন সংকটের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান অভিবাসনবিরোধী অনুভূতির মধ্যেই এই ব্যাপক প্রস্তাবটি সামনে এল। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী ‘ওয়ান নেশন’ পার্টির চেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই চাপে রয়েছে বিরোধী জোট। দলটি এর আগে তিন বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার সাময়িক অভিবাসী কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিরোধীদলীয় নেতা আঙ্গুস টেলর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ আমরা যা প্রস্তাব করছি তা এই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসন হ্রাস। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা প্রথম বছরে ১ লাখ, দ্বিতীয় বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে গিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়াবে। এটি রাস্তাঘাট, স্কুল, অবকাঠামো ও আবাসন খাতের ওপর থেকে চাপ কমাবে এবং আমাদের দেশটিকে প্রয়োজনীয় স্বস্তি দেবে।
যে খাতগুলোতে পরিবর্তন আসবে
কোয়ালিশনের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানবিক বা হিউম্যানিটারিয়ান ভিসার কোটা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজারে আনা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির কোটা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজারে নামানো হবে এবং গ্র্যাজুয়েশনের পর শিক্ষার্থীদের দেশটিতে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া ‘টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে।
তবে এর বিপরীতে, কোয়ালিশন সাময়িক দক্ষ কর্মী ভিসা ১ লাখ পর্যন্ত বাড়ানোর এবং নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের ভিসা আবেদনের জমে থাকা ব্যাকলগ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
টেলর আরও যোগ করেন, লেবার সরকারের আমলে দক্ষ অভিবাসন থেকে সরে এসে গণ-অভিবাসের দিকে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল। আমরা সেই ধারা উল্টে দেব।
বিরোধী জোটের এই প্রস্তাব গত মাসে মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকারের ঘোষিত কাটছাঁটের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর। লেবার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক নিট অভিবাসন কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামানোর কথা রয়েছে।
কোভিডের কারণে প্রায় দুই বছর সীমান্ত বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়া সীমান্ত পুনরায় খুলে দিলে দেশটিতে অভিবাসীদের ঢল নামে, যার একটি বড় অংশ ছিল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও সাময়িক কর্মী। তবে গত দুই বছর ধরে এই সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত বছরে নিট বৈদেশিক অভিবাসনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


