মনোনয়নপত্রে নিজেই প্রস্তাবকারী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ব্যতিক্রম
নজির তৈরি হয়েছে বিএনপির এক নেতাকে ঘিরে। নিজের মনোনয়নপত্রে নিজেই প্রস্তাবকারী হওয়ায়
বাতিল হয়েছে দলের দক্ষিণ জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই
শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ
জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আলী আব্বাস নিজেই নিজের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী
হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন, যা নির্বাচন বিধিমালার পরিপন্থী। এ ছাড়া তিনি বিএনপির প্রার্থী
দাবি করলেও দলীয় মনোনয়নের কোনো প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এসব কারণে তার মনোনয়নপত্র
বাতিল করা হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী তিনি চাইলে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম,
জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান,
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল
মোস্তফা, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান এবং জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী।
এছাড়া একই আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্রও
বাতিল করা হয়েছে। ঋণখেলাপি হওয়ায় তার প্রার্থিতা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান রিটার্নিং
কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব
পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
মিঞা। অপর একটি আসনে দায়িত্বে রয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত
হোসেন চৌধুরী।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রার্থীরা ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন।