গুলশানে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, আটক ৫
রাজধানীর গুলশানে এক ভবঘুরে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের
ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ
রাকিবুল হাসান এ তথ্য জানান।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের নদ্দা এলাকার
মোড়েল বাজারের মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদরাসার সামনে ওই নারীকে
নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার
সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মধ্যবয়স্ক একজন নারীকে বিদ্যুতের
পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় তাকে ঘিরে উল্লাস করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। উল্লাস
করতে করতে তারা ওই নারীর শরীরে পানি ঢেলে দিচ্ছেন। তীব্র শীতে ওই নারী জবুথবু হয়ে আছেন।
মারকাজুত তা'লীম আল ইসলামী মাদরাসার কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার সকালে
মাদরাসা ভবনে চুরি করতে যান ওই নারী। পরে মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা তাকে আটক করেন। ওই
নারী দেহ ব্যবসায়ী বলেও দাবি তাদের।
গুলশান থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান জানান, এই ঘটনায় কেউ কোনো মামলা
করেনি। বিষয়টি তাদের নজরে এলে ভিডিও দেখে মারকাযুত তা'লীমের পাঁচজন ছাত্র-শিক্ষককে
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা জানান নদ্দার মোড়েলবাড়ি মাদরাসার
তিনতলায় চুরি করতে গিয়েছিলেন ওই নারী। তাকে ধরতে গেলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ধরবেন না।
আমি নাপাক।'
রাকিবুল হাসান বলেন, 'চুরি ও দেহব্যবসার অভিযোগে তারা ওই নারীর গায়ে
পানি ঢেলেছেন বলে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন।'
তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রাকিবুল।