খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়ায় অবস্থিত ইসলামিক মিশনের প্রধান চিকিৎসক ডা. মুনমুন সুলতানার বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি আদায়, ভূমি দখল এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধের চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন ডা. মুনমুন সুলতানা। অন্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ এবং তাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন না করলে রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টিকিট ফি আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিশনের কর্মচারীদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
অভিযোগকারীরা জানান, ১৯৮৬ সালে সরকারি গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা একটি চলাচলের রাস্তা সম্প্রতি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তা বন্ধ হলে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের রোপণ করা ফলের বাগান কেটে ফেলা এবং মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ডা. মুনমুন সুলতানার বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার বাসায় কর্মরত এক গৃহকর্মীকে মারধর করে দাঁত ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী দুজনের কর্মরত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ওষুধ ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়া, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মাধ্যমে নিজস্ব প্রেসক্রিপশন প্যাড ছাপানো এবং বিনামূল্যে পাওয়া দামি অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ স্থানীয় ফার্মেসিতে বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মুনমুন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের পরোয়া করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দেবেন না বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে একপর্যায়ে সাংবাদিকদের অর্থের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল তামান্না বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানববন্ধন ও স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, রোগী ও কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


