...|...|...

বিশ্ব

‘ধর্মে-ধর্মে বিভেদ করে দেশ টুকরো করছে বিজেপি’, মুখ খুললেন যাদবপুরের শিক্ষার্থীরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ৩:০০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪২
Shares
‘ধর্মে-ধর্মে বিভেদ করে দেশ টুকরো করছে বিজেপি’, মুখ খুললেন যাদবপুরের শিক্ষার্থীরা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শাসকদলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি-আরএসএসই ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করে দেশকে টুকরো করতে চাইছে।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়। একই রাতে যাদবপুর থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। বাম ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই শনিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, যাদবপুরে ‘দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, যাদবপুর সব সময়ই ব্যতিক্রমী এবং সেখানে যারা আন্দোলন করেন, তারা যেন ভারতের বাইরে একটি জায়গায় আছেন-এমন ধারণা করেন।

দিলীপ ঘোষের ভাষ্য, যাদবপুরে ‘ভারতের সংবিধান চলবে না, রীতিনীতি ও স্লোগান চলবে না, বিদেশি স্লোগান চলবে’ এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না। ঘেরাও আন্দোলনের সংস্কৃতি এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘রক্তে মিশে গেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, যাদবপুরে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এর আগে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ভারতকে টুকরো করার কথা বলা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতীক ভাঙার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যারা এ ঘটনায় জড়িত, তারাই এখন বড় বড় কথা বলছেন।

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক শিরোনামে আসার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নানা কারণে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর আর ক্ষতি হতে দেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে, এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন যাদবপুরের শিক্ষার্থীরা। আরএসএফের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগ, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ আসলে আরএসএস-বিজেপি। তিনি আরও বলেন, তারাই হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দেশকে টুকরো করতে চাইছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে।

ডিএসওর যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি শুভাশিস জানা বলেন, বিজেপি-আরএসএস প্রকৃত গণতন্ত্র চায় না। তিনি বলেন, যাদবপুরের ইতিহাস গণতন্ত্রের পক্ষে এবং অগণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। শাসকগোষ্ঠী বিরোধী মত সহ্য করতে পারে না বলেই বারবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করা হচ্ছে।

এসএফআইয়ের যাদবপুরের স্নাতকোত্তর ছাত্র অঞ্জিল দাস বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের দেশবিরোধী বলছেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দেশবিরোধী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, চন্দ্রযান অভিযানের সময় ইসরোয় কর্মরত যাদবপুরের সাবেক শিক্ষার্থীরাও কি তাহলে দেশবিরোধী?

আইসার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সৌমিলি দাস বলেন, বিজেপি মনে করে তারাই দেশ এবং তাদের বিরোধিতা করলেই দেশের বিরোধিতা করা হয়। শিক্ষার ওপর হামলা ও সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করাকে দেশবিরোধিতা বলা হলে শিক্ষার্থীরা সেই অভিযোগ মেনে নিতেও প্রস্তুত।

এদিকে শুক্রবার রাতেই যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় একটি ভিডিওবার্তায় সুর নরম করে দাবি করেন, কে বা কারা মুখে গেরুয়া আবির মেখে বিজেপি সাজার চেষ্টা করছেন।

দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।