মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষদের দুটি শিবিরে চালানো পৃথক বিমান হামলায় গত দুই দিনে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও একটি যুব সংগঠনের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই রাজ্যে আরেকটি বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
আরাকান আর্মি এবং পোন্নাব্যুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্রদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকাল ৫টার দিকে রাখাইনের পোন্নাব্যুন টাউনশিপে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ছয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
এরপর সোমবার সকালে উভয় গোষ্ঠী জানায়, একই টাউনশিপে অবস্থিত অন্য আরেকটি শিবিরে বিমান বাহিনীর চালানো আরও একটি হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
আহত ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে পোন্নাব্যুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র কিও উইন তুন বলেন, সেখানে থাকা প্রত্যেকেই একেকজন বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে সরকার দাবি করেছিল যে, সেনাবাহিনী বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে থাকে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যটি যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উপকূলীয় এই রাজ্যটির বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনী।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর আগে মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাখাইনের কিউকতাও বাজারের কাছে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নিন্দা কুড়িয়েছিল।


