মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩ লাখ ৩০ হাজার ১৪৯ শিক্ষক, ইনস্ট্রাক্টর ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নয়টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এসব প্রশিক্ষণে মনোনীতদের বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে মাউশি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধরে রাখার হার বাড়ানো, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সহনশীলতা বৃদ্ধি করা।
এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের মনোসামাজিক প্রাথমিক সহায়তা, বিষয়ভিত্তিক পেশাগত উন্নয়ন, নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রস্তুতি, ভোকেশনাল ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টদের প্রশিক্ষণ এবং লাইব্রেরিয়ানদের প্রশিক্ষণ।
এতে মনোসামাজিক প্রাথমিক সহায়তা বিষয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ৫৩ হাজার ৭৬০ জন এবং নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ পাবেন ২৬ হাজার ৮৮০ জন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের আওতায় ২৮ হাজার ৮০০ জন, ব্লেন্ডেড লার্নিং প্রশিক্ষণে ৫৯ হাজার ১৭০ জন এবং আইসিটি শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ২৯ হাজার ৫৮৫ জন অংশ নেবেন।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণে ১১ হাজার জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোকেশনাল ধারার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টদের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ২ হাজার জন। পাশাপাশি লাইব্রেরিয়ানদের জন্য প্রায় ২৯ হাজার ৫৮৫ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, আধুনিক শিখন-তত্ত্ব সম্পর্কে নবীন শিক্ষকদের ধারণা দেওয়া এবং হাতে-কলমে কার্যকর শিখন-শেখানোর কৌশল রপ্ত করানো এসব প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং পাঠদান ও শিখন কার্যক্রমে সমসাময়িক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
তারা আরও জানিয়েছে, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নেতৃত্বগুণ উন্নয়নেও এসব প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে লেইস প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তবে কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধান মনোনীত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করছেন কিংবা তাদের ছাড়পত্র দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন বলে মাউশির কাছে তথ্য এসেছে। কোথাও কোথাও মনোনীত শিক্ষকরা নিজেরাও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এ অবস্থায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ লক্ষ্য অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে লেইস প্রকল্পের প্রশিক্ষণে মনোনীত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অনিবার্য কারণ ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।


