...|...|...

সারাদেশ

৬০০ টাকার পুঁজি থেকে সবুজের মাসিক আয় লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৭
Shares
৬০০ টাকার পুঁজি থেকে সবুজের মাসিক আয় লাখ টাকা

৬০০ টাকার পুঁজি থেকে সবুজের মাসিক আয় লাখ টাকা। ছবি: টাইমস টুডে

মাত্র ৬০০ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু। এরপর ইউটিউবের ভিডিও দেখে কাজ শেখা, বাস্তবে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজের এলাকায় ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ‘রিফাত কুটির শিল্প’। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পূর্ব গামারীতলা ইউনিয়নের পূর্ব রায়পুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম সবুজের এই উদ্যোগ এখন তার জীবিকার পাশাপাশি আরও ১২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। তার দাবি, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

৪০ বছর বয়সী শহিদুল ইসলাম সবুজের বাবা মো. আতাব আলী। করোনাকালে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে গিয়ে ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে কাজ শেখার চেষ্টা করেন। সেই প্রচেষ্টাই তাকে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।

কাজ শেখা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য প্রথমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় কাজ শুরু করেন সবুজ। সেখানে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর সীমিত পুঁজি নিয়ে নিজ গ্রামেই গড়ে তোলেন ‘রিফাত কুটির শিল্প’ নামে একটি ছোট কারখানা।

শুরুর দিকে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধীরে ধীরে কাজের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। নিজের শ্রম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ১২ জন কাজ করছেন।

শহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমি প্রথমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় কাজ শুরু করি। সেখানে কাজ শিখে ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি। এরপর ‘রিফাত কুটির শিল্প’ নামে ছোট একটি কারখানা গড়ে তুলি। বর্তমানে আমরা ১২ জন মিলে কাজ করছি। আমার স্বপ্ন, একদিন ১০০ জনের একটি পরিবার নিয়ে কাজ করব। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।

নিজের উদ্যোগের পেছনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অল্প টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে কাজ শিখেছি, পরিশ্রম করেছি। এখন আল্লাহর রহমতে ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ বলেন, সবুজ নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে কাজ শিখে এলাকায় এসে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। এখানে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার এই উদ্যোগ আরও বড় হোক, এলাকার আরও মানুষ কাজের সুযোগ পাক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজিবুর রহমান বলেন, গ্রামের একজন মানুষ নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে এভাবে এগিয়ে গেছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তার প্রতিষ্ঠান আরও বড় হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

প্রত্যন্ত গ্রামে সীমিত পুঁজি নিয়ে গড়ে ওঠা এমন উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকা এলাকায় ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার এই প্রচেষ্টা অন্য তরুণদেরও নিজ উদ্যোগে কিছু করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে পারে।

৬০০ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা শহিদুল ইসলাম সবুজের উদ্যোগ এখন ১২ জনের কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত। মাসে প্রায় লাখ টাকা আয়ের কথা জানালেও এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। ‘রিফাত কুটির শিল্প’কে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একদিন ১০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এখন তার লক্ষ্য।