যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে গত দুই শতাব্দীতে প্রথম কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরকারি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিন দশক আগে সহপাঠী হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ক্রিস্টা পাইক বুধবার গভীর রাতে লিথাল ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কারাগার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর নাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন থেকে চিকিৎসার জন্য ক্রিস্টা পাইককে দ্রুত বাইরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি এই ঘটনার পর তার আইনজীবী বা রাজ্য কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়েও তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের তথ্যমতে, শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া, অনুন্নত মানসিক অসুস্থতা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় বয়স কম থাকায় মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই বহুল আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তবে টেনেসির সংশোধন বিভাগ তাদের এই প্রক্রিয়ার জোরালো সাফাই গেয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, টেনেসির সংশোধন বিভাগ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত রাজ্যের আইনগত ও প্রতিষ্ঠিত মৃত্যুদণ্ড প্রটোকলের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করেছে। প্রটোকলের লিথাল ইনজেকশনের রাসায়নিক পদার্থটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ছিল এবং এই প্রটোকলে আজ সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতির অনুমতি নেই। ক্রিস্টা পাইককে একটি অফ-সাইট মেডিকেল সুবিধায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
যা ঘটেছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড চলাকালীন পাইকের আইনজীবীরা তা স্থগিত করার জন্য একটি ফেডারেল কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সাক্ষীদের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানান যে, জল্লাদরা লিথাল ইনজেকশনের দুটি সিরিঞ্জই পুশ করার পরও ক্রিস্টা পাইক জীবিত আছেন এবং নাক ডাকছেন।
এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট ১১তম ঘণ্টায় নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ পরিষ্কার হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে তেনেসির নক্সভিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড পান পাইক। অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর টেনেসির সংশোধন বিভাগ জানিয়েছিল যে তারা দিন শেষের দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমেই সামনে এগিয়ে যাবে। সে অনুযায়ী স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে সাংবাদিকরা এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তারা জানিয়েছেন যে পাইকের নাক ডাকার শব্দ, জোরে দীর্ঘশ্বাস, হাঁপিয়ে ওঠার শব্দ এবং ব্যথায় তার কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। এছাড়া তিনি এত ঘন ঘন পা নাড়াচ্ছিলেন যে তার গায়ের চাদর পর্যন্ত পড়ে গিয়েছিল। অনেক সময় পর্দা টেনে দেওয়া হয়েছিল, ফলে সাংবাদিকরা কেবল ভেতরের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।


