কোনো ধরনের সম্ভাব্য হুমকি অনুভব করলে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর নীতি অনুসরণ করবে ইরান। দেশটির সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন আগের তুলনায় আরও বেশি প্রস্তুত। ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আকরামিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে সামরিক অভিযানে অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশলের পাশাপাশি সমন্বিত বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এসব কৌশল প্রয়োগের ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা আরও কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের সামরিক নীতিতে আগাম হামলা বা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা। তার দাবি, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের যৌক্তিকতা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেও আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত।
তিনি এ প্রসঙ্গে জর্ডান, সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার কথাও উল্লেখ করেন। এসব পদক্ষেপকে তিনি প্রতিরোধমূলক ও আগাম নিরাপত্তামূলক অভিযানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বলেন, ভবিষ্যতেও এই নীতি অব্যাহত থাকবে। তার ভাষ্য, ইরান যখনই কোনো হুমকি অনুভব করবে, তখন নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের এই নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সামরিক কৌশলে আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই


