...|...|...

বিশ্ব

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সিরিয়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, রাত ২:৩৬
Shares
হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সিরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাথে সংঘাত বাড়তে থাকায় সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে সিরিয়া। এ লক্ষ্যে কয়েক ডজন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য সৌদি আরবে পাঠিয়েছে দামেস্ক। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সামরিক পরামর্শ প্রদান এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিনিময়। তবে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর দুটি সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সিরিয়া থেকে কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। তাদের একটি অংশ সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদের যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

সিরিয়ার সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাঠানো সদস্যদের দায়িত্ব মূলত সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে তাদের দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

সৌদি আরব ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে সম্প্রতি। গত ৪ নভেম্বর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকের পর এ চুক্তি হয়।

সিরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সামরিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এটিকে সরাসরি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

ওই কূটনীতিকের ভাষ্য, সিরিয়ার বর্তমান অগ্রাধিকার হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন। ফলে সৌদি আরবে সামরিক সদস্য পাঠানোর খবরকে এখনই সরাসরি সামরিক মোতায়েন হিসেবে বর্ণনা করা ঠিক হবে না।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রধান উদ্দেশ্য সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠন করা। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা সৌদি অংশীদারদের কাজে লাগতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ চলছে এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে আরও মহড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের উত্তেজনা গত জুলাই থেকে নতুন করে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের প্রভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধও নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। এতে সৌদি আরব বিভিন্ন মিত্রদেশের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে নিজেদের সমর্থিত বাহিনীর পক্ষে বিমান হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের জন্য সামরিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা এবং ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

সৌদি আরবকে সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াকে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধে সহায়তা করতে সিরিয়া যদি সরাসরি সেনা মোতায়েন করে, তাহলে দেশটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া এখনো নিজেদের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন নিয়ে ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে দেশটির জন্য নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

সিরিয়ার সাথে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সমীকরণের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত আগস্টে মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্ট ওই চুক্তি অনুমোদন করেছে। ফলে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আঙ্কারার অংশগ্রহণের পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে।

সিরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সাথে তাদের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। এমনকি মক্কা চুক্তির মতো বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোর সঙ্গেও এর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার সাথে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে দামেস্ক এখন আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তবে সৌদি আরব ও সিরিয়ার সামরিক সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত প্রশিক্ষণ, সামরিক পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্যেই সহযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকলেও ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে সিরিয়ার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।