ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে এনসিপি লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসুদ বলেন, আমাদের মুক্তিটা শুধুমাত্র হাসিনার বিরুদ্ধে ছিল না। আমাদের প্রত্যেকটা জেনারেশনকে জানাতে হবে, এ লড়াইটা ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছিল। ভারত তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে রাখতে পারেনি। কারণ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিল না। হাসিনা ছিল ভারতের প্রতিনিধি। সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ কিংবা হাসিনার পতন ঘটাইনি, বরং ভারতীয় আধিপত্যবাদের পতন ঘটিয়েছি। আমরা মূলত এ অঞ্চল এবং মাথা উঁচু করে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম।
ভারতের বিষয়ে হান্নান মাসুদ বলেন, ভারত যতই হুমকি-ধমকি দিক কিংবা বাংলাদেশে অনেক কিছু উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করুক, তারা আসলে কিছুই করতে পারবে না। কারণ তারা তাদের কথিত ক্রীতদাস শেখ হাসিনাকেই বাঁচাতে পারেনি, বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়াবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের রাষ্ট্রপতি থেকে মুক্তি মিললেও দেশের মানুষ এখনো পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পায়নি। ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে আবারও দলীয় রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানাতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, আমরা হয়তো ফ্যাসিবাদী আমলের সেই শাহাবুদ্দিন থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু আমরা আসলে সিস্টেম থেকে মুক্তি পাইনি। হাসিনার আমলের ৭০ অনুচ্ছেদের গেরাকলে পড়ে আমরা সেই সিস্টেমের গেরাকলে পড়েছি। আরেকটা দলীয়, একদলীয় রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন-অভিনন্দন জানাতে বাধ্য হয়েছি। এটাতে অংশগ্রহণ করা আমরাও হয়তো ভুল করেছি।
হান্নান মাসুদ আরও বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠন এবং সরাসরি গোপন ভোটের মাধ্যমে নতুন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সর্বদলের আকাঙ্ক্ষা। এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে সবাইকে সামনে থেকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপি লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক জেলা আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামলী সুলতানা জেদনী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ আল মাহমুদ, শহীদ সাব্বিরের বাবা আমির হোসেন ও শহীদ বিজয়ের বাবা ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।


