...|...|...

সারাদেশ

যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৪ ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা লুট

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৪৩
Shares
যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৪ ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা লুট

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে চারটি পণ্যবাহী ট্রাকের পথরোধ করে চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) লুটের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লুট হওয়া জৈব সারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে একটি খালি জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, মজল হক (৩০) ও মো. শাকিল (২৪)। তারা উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির ১ নং সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শাখার নেতৃত্বে এ লুটের ঘটনা ঘটেছে।

জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ( ২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকায় চারটি ট্রাকের গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং চারটি ট্রাক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে নিয়ে গিয়ে চার ট্রাকে থাকা ১ হাজার ৬৮০ বস্তা মুরগির বিষ্ঠা নামিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকার নাহার এগ্রো ফিড লিমিটেডের প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এসব মুরগির বিষ্ঠা কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোম্পানির শেড থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। এর অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর চারটি ট্রাকে করে জৈব সারগুলো ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পথে ট্রাকগুলো হাবিলদারবাসা এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক সেগুলোর গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেয়। পরে চালকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের মাধ্যমে জৈব সার নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে চালকদের মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

 এ ঘটনায় রিপন হোসেন চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে ২২ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৩২) দায়ের করা হয়। এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর সুধারাম থানার জালিয়াল এলাকার আবির (২৮) ও কবির (৫০), মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ সাখা এবং নাজিম উদ্দিন রানা (৩৪)।

এ বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার নেতৃত্বে মুরগির বিষ্ঠা লুটের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে; আমি কেন এসব ছোট বিষয়ে নজর দেব? ব্যবসায়ী রিপন নিজ থেকে মাঝে মধ্যে খরচের টাকা দিতো।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে অভিযান চালিয়ে মজল হক ও মো. শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।