...|...|...

লাইফস্টাইল

স্মার্টফোন যেভাবে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করছে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:০৬ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪১
Shares
স্মার্টফোন যেভাবে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করছে

ছবি : সংগৃহীত

একসময় প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলার জন্য মানুষ অপেক্ষা করত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনের শেষে একসাথে বসে গল্প করা, মনের কথা ভাগ করে নেওয়া কিংবা ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে বড় আনন্দ। কিন্তু সময়ের সাথে বদলেছে সেই অভ্যাস। এখন অনেক দম্পতি পাশাপাশি বসেও ব্যস্ত থাকেন নিজেদের ফোনের পর্দায়।

সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত স্মার্টফোন যেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি আমাদের দূরে থাকা মানুষদের কাছাকাছি এনেছে ঠিকই, তবে অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় কাছের মানুষগুলোর মধ্যেই তৈরি করছে অদৃশ্য দূরত্ব।

ফোনে কত সময় কাটানো হচ্ছে, শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়। বরং যখন প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলা, একসাথে হাসা, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া কিংবা সামান্য অভিমান মেটানোর চেয়ে ফোনের স্ক্রিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্ক সংকেত হতে পারে। জেনে নিন স্মার্টফোন কীভাবে ধীরে ধীরে সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে

১. পরস্পরের কথার চেয়ে ফোন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা
আপনার সন্ধ্যা কীভাবে শুরু হয়, একটু ভাবুন। কাজ শেষে সঙ্গীর দিন কেমন গেল জানতে চাওয়ার বদলে যদি প্রথমেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে ধীরে ধীরে মানসিক যোগাযোগ কমতে পারে। ছোট ছোট কথোপকথনের মাধ্যমেই সম্পর্ক গভীর হয়। সেই সুযোগ কমে গেলে অজান্তেই বাড়ে দূরত্ব।

২. সঙ্গীকে বারবার উপেক্ষিত মনে হওয়া
কেউ নিজের গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছেন, ভালো খবর ভাগ করছেন বা দিনের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন, আর অন্যজন তখন ফোনের স্ক্রিনে ব্যস্তন এমন পরিস্থিতি হতাশা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে সঙ্গীর মনে অবহেলার অনুভূতি জন্ম নিতে পারে।

৩. প্রতিটি শান্ত মুহূর্ত স্ক্রলিংয়ে হারিয়ে যাওয়া
একসঙ্গে চুপচাপ বসে থাকা, নীরবতা উপভোগ করাও সম্পর্কের একটি সুন্দর অংশ। কিন্তু প্রতিটি বিরতিতে ফোনের নোটিফিকেশন দেখা বা স্ক্রলিং শুরু হলে সেই স্বাভাবিক মুহূর্তগুলো হারিয়ে যায়। একই ঘরে থেকেও দুজন মানুষ আলাদা ডিজিটাল জগতে ডুবে যেতে পারেন।

৪. স্ক্রিন টাইম নিয়ে ঝগড়া
‘সবসময় ফোন নিয়ে থাকেন’এমন অভিযোগ অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়। ফোন ব্যবহারের সময় নিয়ে নিয়মিত বিরোধ শুরু হলে বুঝতে হবে সমস্যা শুধু স্ক্রিন টাইম নয়, বরং সঙ্গীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না পাওয়ার অনুভূতি।

৫. প্রিয়জনের চেয়ে অপরিচিতদের সম্পর্কে বেশি জানা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে পরিচিত মানুষ বা সেলিব্রিটিদের জীবনের খবর জানা সহজ। কিন্তু নিজের সঙ্গীর চিন্তা, দুশ্চিন্তা, স্বপ্ন কিংবা বর্তমান সুখের বিষয়গুলো যদি অজানা থেকে যায়, তাহলে সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে।

স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হলেও এর ব্যবহারে প্রয়োজন ভারসাম্য। প্রতিদিন কিছু সময় ফোন দূরে রেখে প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলা, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া এবং একসাথে সময় কাটানোই পারে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে। কারণ, কোনো স্ক্রিন নয় মানুষের উপস্থিতিই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বন্ধন।