...|...|...

সারাদেশ

স্বামীর পছন্দের নারীকে ঘরে তুলে দুই সতীনের মিলেমিশে সংসার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:০৪
Shares
স্বামীর পছন্দের নারীকে ঘরে তুলে দুই সতীনের মিলেমিশে সংসার

স্বামীর পছন্দের নারীকে ঘরে তুলে দুই সতীনের মিলেমিশে সংসার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

একই সংসারে দুই স্ত্রীর বিষয়টি শুনলেই অনেকের মনে তৈরি হতে পারে নানা প্রশ্ন। কিন্তু গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকায় আব্দুর রহমানের সংসারের চিত্রটা ভিন্ন। তার দুই স্ত্রী রুমা আক্তার ও নাজনীন সুলতানা একই বাসায় থাকছেন। সংসারের কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি তারা একসাথে খাওয়া-দাওয়া করেন, কখনো আবার ঘুরতেও বের হন।

এই সম্পর্কের শুরু প্রায় চার বছর আগে। এর আগে আব্দুর রহমানের সাথে রুমা আক্তারের সংসার চলছিল প্রায় ১৩ বছর ধরে। সব মিলিয়ে তাদের বিয়ের বয়স এখন প্রায় ১৭ বছর। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় আব্দুর রহমান স্ত্রী রুমাকে জানান, নাজনীন সুলতানা নামের এক নারীর প্রতি তার ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুনে রুমা স্বামীর সাথে বিরোধে জড়াননি। বরং তার পছন্দকে মেনে নিয়ে নাজনীনকে সাথে করে কাজি অফিসে যান। সেখানেই আব্দুর রহমান ও নাজনীনের বিয়ে হয়।

এরপর নাজনীন আর আলাদা কেউ থাকেননি; রুমার সংসারেই সতীন হিসেবে জায়গা করে নেন।

রুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী একদিন আমাকে জানান, নাজনীনকে তার ভালো লাগে। পরে তার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আমি নিজেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করি। এখন আমরা তিনজন সুখেই আছি। এক হাঁড়িতে রান্না করি, একসাথে খাওয়া-দাওয়া করি। তিনজন মিলে বেড়াতেও যাই।

বর্তমানে দুই স্ত্রীই একই বাসায় থাকেন। নাজনীনেরও একটি সন্তান রয়েছে। দৈনন্দিন কাজ দুজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে করেন। কখনো রুমা রান্না করেন, নাজনীন অন্য কাজ সামলান; আবার কখনো দায়িত্ব বদলে যায়। সুযোগ পেলে দুজন একসাথে বাইরে সময়ও কাটান।

আব্দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ঝরা বর্ষা গ্রামে। ২০০৬ সালে জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরে আসেন তিনি। বর্তমানে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হরিনহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন।

দুই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বাইরে বের হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের নানা মন্তব্যের মুখে পড়তে হয় তাকে। তবে এসব মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন না আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, দুই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হলে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করেন। তখন আমি তাদের বলি, অন্যের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখার চেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা উত্তম। আমি আমার দুই স্ত্রীকে সমানভাবে দেখি। তাদের যখন যা প্রয়োজন, সামর্থ্য অনুযায়ী দুজনকেই সমানভাবে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা খুব সুখে আছি।

একই ঘরে দুই সতীনের বসবাস হওয়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। বাইরে গেলে রুমা ও নাজনীনকে কখনো কটূক্তিও শুনতে হয়। তবে এসব নিয়ে তারা নিজেদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো প্রভাব পড়তে দেন না।

দুই নারীর ভাষ্য, তাদের সংসার নিয়ে বাইরে যত আলোচনা বা কৌতূহলই থাকুক, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই তারা বসবাস করছেন। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থায় তারা নিজেদের সংসারে শান্তিতেই আছেন।