...|...|...

বিশ্ব

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৫:২৭ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:০১
Shares
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের তোলেদো অঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পাশাপাশি রেল নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও স্পেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে মোরাসহ ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় রেনফে ও ইরিও পরিচালিত দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কাজ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি খাদের মধ্যে ট্রেনের বগি কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫৪ বছর বয়সী যাত্রী জেসুস জেরোনিমো স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইসকে জানান, সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা ট্রেনের ভেতরে ছিটকে পড়েন। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।

পরে ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে এসে তারা ট্রেনের বগি কাত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর রেল চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রস্তুতি চলছে।

কী কারণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর দুর্ঘটনার পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি, পরিচালনাগত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।