...|...|...

বিশ্ব

আরব দলগুলোর বড় চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:২৭
Shares
আরব দলগুলোর বড় চমক, তৈরি হতে পারে নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে বড় সাফল্যের আভাস দিচ্ছে দেশটির প্রধান দুটি আরব রাজনৈতিক দল। বুথফেরত জরিপের এই পূর্বাভাস সত্যি হলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে দল দুটি। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর পথও তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত জরিপে সামাজিকভাবে রক্ষণশীল ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং বামপন্থী জয়েন্ট লিস্টের ভালো করার আভাস পাওয়া গেছে।

জরিপ অনুযায়ী, দল দুটি পার্লামেন্টে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে পারে। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক জোটগুলোর কাছে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বুথফেরত জরিপে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়া ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে জরিপের পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফলের নিশ্চয়তা দেয় না।

রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ তাদের হতাশা ও নিরাশাকে আশায় পরিণত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব উপায়ে নেতানিয়াহুর সরকারের পরিবর্তন চান তিনি। তার প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করা, যার মাধ্যমে এই পরিবর্তন সম্ভব হবে।

ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও ভোটের ফল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়টি দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত।

ইসরায়েলের অনেক ইহুদি নাগরিক মনে করেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ফলে নির্বাচনে ভালো করলেও আরব দলগুলোর সরকার গঠনে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি সহজ নাও হতে পারে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের বড় একটি অংশ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময়কার যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের বাড়িঘরে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর। বর্তমানে দেশটির আরব জনগোষ্ঠীর অনেকেই ইহুদি-অধ্যুষিত এলাকা থেকে পৃথক শহর ও জনপদে বসবাস করেন।

তাদের একটি অংশ সহিংসতা, আবাসনসংকট এবং বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আসছেন। ইসরায়েলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় এবং আরব নাগরিকদের অধিকার নিয়েও তাদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। এসব কারণে কয়েক দশক ধরে অনেক আরব ভোটার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের পেছনে নেতানিয়াহু সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ভোটারদের অনেকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি সরকারের আচরণ এবং দেশের অভ্যন্তরে আরব নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তাদের ক্ষুব্ধ করেছে।

নির্বাচনী প্রচারেও আরব নাগরিকদের নিয়ে নেতানিয়াহুর বিভিন্ন বক্তব্য ও অবস্থান রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবার লোদ শহরে ভোট দেন ৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি নাগরিক খুলুদ আল-জেইনাতি। শহরটিতে ইহুদি ও আরব-ই সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। নির্বাচনের দিন সেখানকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

খুলুদ বলেন, তিনি নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী। তার মতে, মানুষ বুঝতে পারছে এটি সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়; তারা পরিবর্তন চান।

তিনি আরও বলেন, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরব সম্প্রদায়কেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। তাই তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ভোট দেওয়া জরুরি।

খুলুদের আশা, পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব ভোটারদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আরব দলগুলোর মধ্যে রাআম এর আগেও ইসরায়েলের জোট সরকারে অংশ নিয়েছিল। ২০২১ সালে দলটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকারের শরিক হয়।

রাআমের ওই সরকারে যোগ দেওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের অনেক ডানপন্থী ইহুদি ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রায় এক বছর পর বেনেটের সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফেরেন এবং তার নেতৃত্বে ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়।

এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং দুই আরব দলের সম্ভাব্য সাফল্য নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এখনই তার বিদায় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত ফল, বিভিন্ন দলের আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে।