...|...|...

বিশ্ব

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে নিহত ৫

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫২
Shares
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ার পর টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সৃষ্ট পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে কেউ গাছ ভেঙে পড়ার নিচে চাপা পড়ে আবার কেউ আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত তাদের বুলেটিনে জানায়, ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে অর্ণব। আইএমডির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এটি ঘূর্ণিঝড়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ তীব্রতার শ্রেণি।

সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঝড়টির কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। উপকূল অতিক্রম করার সময় এর একটানা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়া বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি তার তীব্রতা কিছুটা হারিয়ে ‘অতি প্রবল’ থেকে ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন জেলায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝড়ের আগেই ওই দুই রাজ্যের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে বা সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপল্লেতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। অন্যদিকে ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের কারণে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিভিন্ন বিমান সংস্থা। ঝড়ের তোড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন চলাচলও বাতিল করা হয়েছে। তবে ওডিশা ও অন্ধ্র প্রদেশে এই মুহূর্তে প্রাণহানির নতুন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার জুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।